জাভা এবং ইতিহাস
বহুল ব্যবহৃত শক্তিশালী একটি প্রোগ্রামিং ভাষা হচ্ছে জাভা। জাভার জন্ম লগ্ন থেকে এর জনপ্রিয়তা এবং গ্রহন যোগ্যতা ছিলো প্রচুর। আজ আমরা জানবো কিভাবে এই শক্তিশালী প্রোগ্রামিং ভাষাটির জন্ম হলো- ১৯৯০ – এর শুরুর দিকে আমেরিকান একটি টেক কোম্পানি যা কিনা কম্পিউটার শিল্পে বিপ্লব ঘটিয়েছিল, তারা ভাবলো এমন একটি প্রোডাক্ট তাদের প্রয়োজন যা কিনা ইন্টারনেট জগতে প্রভাব বিস্তার করতে সহয়তা করবে। কোম্পানিটি হচ্ছে “Sun Microsystem’’। তারা বিভিন্ন প্রকার কম্পিউটার যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করতো এবং বাজারজাত করতো। ১৯৯০ এর দশকে জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা ছিলো সি, সি ++। Sun Microsystem ভাবলো তারা এমন একটি প্রোগ্রামিং ভাষা বানাবে যা কিনা সি এবং সি ++ এর তুলনায় শক্তিশালী, দ্রুতগামী এবং উচ্চক্ষমতা সম্পূর্ন হবে। তারা তাদের কোম্পানির অভ্যন্তরে এজন্য একটি টিম গঠন করার সিন্ধান্ত নিলো। শুরুর দিকে মাত্র ১৩ জন ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে যাত্রা শুরু করে The Green Team । তারা ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্রে ছোট একটি অফিসে যাত্রা শুরু করে। এখান থেকেই মূলত শুরু হয় জাভা(যদিও বা শুরুর দিকে জাভা নামকরন করা হয় নি) প্রোগ্রামিং এর অগ্রযাত্রা।
Patrick Naughton, Mike Sheridan and James Gosling সহ যাত্রা শুরু করে The Green Team। শুরুর দিকে তাদের মূল লক্ষ্য ছিলো কিভাবে পরবর্তী যুগের কম্পিউটিং দুনিয়ায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। সময়ের সাথে সাথে তাদের টিমে অন্যরাও যোগ দেয়। ১৯৯১ সালে sun microsystem “Oak” নামে একটি প্রোগ্রামিং ভাষা নিয়ে আসে যা কিনা তাদের হোম ইন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম “Star7” এর জন্য তৈরি করা। সেই ইন্টারটেইনমেন্ট যন্ত্রে “Duke” নামে একটি কার্টুন ক্যারেক্টার ছিলো যা বানিয়েছিলো Joe Palrang। পরবর্তিতে Duke যা কিনা অফিসিয়াল ভাবে জাভা টেকনোলজির মাসকট হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। JavaOne কনফারেনন্সে এই মাসকটটি ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত Oak পরিক্ষা মূলক ভাবেই চলছিলো। এরই মধ্যে এক বিপত্তি দেখা যায় নামকরন নিয়ে। পরবর্তী সময়ে দেখা যায় Oak নামে আরো অনেক প্রতিষ্টান আছে। Oak মূলত একটি গাছের নাম। পরবর্তীতে অনেক মিটিং করার পরে জাভা নাম টি অনুমোদন পায়। James Gosling যাকে কিনা জাভা প্রোগ্রামিং এর জনক বলা হয়ে থাকে। তিনি একটি ইন্টারভিউতে জাভার নামকরন নিয়ে এভাবে বলেছিলেন যে - আমরা মূলত কয়েকটি এলোমেলো শব্দ নিয়ে একটি বোর্ড বানাই। এরমধ্যে অনেক নামই ছিলো যা লয়ারের অনুমতি পায় নিহ। কিন্তু এর মধ্যে সর্বশেষ নামটি ছিলো “জাভা”। যা কিনা কোন সমস্যা ছাড়াই লয়ারের অনুমতি পেয়ে যায়। জাভা নামটির সাথে অন্য কোন কোম্পানির পেটেন্ট করা ছিলো নাহ। এভাবেই Oak থেকে চলে আসে Java।
১৯৯৫ সালের ২৩ শে মে Sun Microsystem ঘোষনা করে যে তারা নতুন একটি প্রোগ্রামিং ভাষা আনতে যাচ্ছে, সেসময় মাত্র ৩০ জনের টিম কাজ করতেছিলো জাভা টেকনোলজির উপর। তারা জানতোই নাহ তারা এমন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে যা কিনা পরবর্তি কম্পিউটিং দুনিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। অন্য সবার মধ্যে James Arthur Gosling যিনি কিনা একজন কানাডিয়ান কম্পিউটার বিজ্ঞানী ছিলেন তিনি JVM (Java Virtual Machine) প্রযুক্তিটির প্রস্তাব করেন। পরবর্তীকালে তাকেই জাভা প্রোগ্রামিং ভাষার জনক বলা হয়ে থাকে। JVM একটি ভার্চুয়াল মেশিন যা কিনা জাভা প্রোগামকে কম্পিউটারে চালনা করতে সহয়তা করে। এটি জাভা বাইট ফাইলকে মেশিন কোডে রুপান্তর করে।
১৯৯৬ সালের ২৩ জানুয়ারি OpenJava কনফারেন্সে জাভা ১.০ রিলিজ করা হয়। কনফারেন্সটিতে অংশগ্রহন করে ছয় হাজার দর্শক। এটি একটি ওপেন সোর্স প্রোজেক্ট হিসেবে উন্মুক্ত করা হয়। এরই মাঝে সারা দুনিয়ায় সারা ফেলে দেয় জাভা প্রোগ্রামিং ভাষাটি। বলা হয়ে থাকে রিলিজ করার এক বছরের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী চার লাখ ডেভেলপার জাভা প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করতে শুরু করে। ১৯৯৭ সালের OpenJava কনফারেন্সটিতে প্রায় দশ হাজার ডেভেলপার এবং দর্শক উপস্থিত ছিল। এ থেকেই বোঝা যায় জাভা প্রোগামিং ভাষাটি আইটি দুনিয়ার কতটা সাড়া ফেলতে পেরেছিলো। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত জাভা কমিউনিটি শুধু বেড়েই চলছে। উইকিপিডিয়া মতে বর্তমানে প্রায় দশ লক্ষ জাভা ডেভেলপার আছে পুরা বিশ্বে। ২০১৯ সালের TIOBE রিপোর্ট অনুযায়ী জাভা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি প্রোগ্রামিং ভাষা। জাভার ব্যবহার বর্তমানে সব জায়গায়। জাভার ব্যবহার সম্পর্কে আরেকটি লেখায় আলোচনা করা হবে।
এই ছিলো জাভা প্রোগ্রামিং ভাষার শুরুর দিকের ইতিহাস।
বিঃদ্রঃ এইটি আমার প্রথম লেখা। অনেক ভুল থাকতে পারে তবুও চেষ্টা করেছি সঠিক তথ্য দেওয়ার। ভুল গুলো উল্লেখ করে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি।